খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে পৌষ ১৪৩২ | ৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আগামী জাতীয় নির্বাচনের মুখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রীতিমতো হুমকির মুখে পড়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আজীবন বহিষ্কারের হুমকিকে তোয়াক্কা না করেই প্রায় ২০০ জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি দলটির জন্য একটি বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমান্ডের সতর্কবার্তার পরেও বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে অনড়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১৫টি আসনে ১৯০-এর বেশি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে এমন অনেক আসন রয়েছে যা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির দুর্গ বা ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোকেও এই বিদ্রোহী নেতারা লক্ষ্যবস্তু করেছেন।
দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে ‘বিকল্প প্রার্থী’ রাখা হয়েছে আইনি জটিলতা ও মামলার ঝুঁকি এড়াতে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রকৃত চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।
সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে জোটসঙ্গীদের জন্য রাখা আসনগুলোতে। স্থানীয় ত্যাগী নেতারা এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট।
নিম্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনের উদাহরণ:
| আসন | দলীয় মনোনয়ন | স্বতন্ত্র প্রার্থী/বিদ্রোহী | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ | জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম: জুনায়েদ আল হাবিব | রুমিন ফারহানা | স্বতন্ত্র পদে, দল থেকে বহিষ্কার |
| ঢাকা-১২ | বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি: সাইফুল হক | সাইফুল আলম নিরব | স্বতন্ত্র পদে, দল থেকে হুঁশিয়ারি |
| পটুয়াখালী-৩ | গণঅধিকার পরিষদ: নুরুল হক নুর | হাসান মামুন | স্বতন্ত্র পদে |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ | গণসংহতি আন্দোলন: জোনায়েদ সাকির | ৫ জন বিএনপি নেতা | স্বতন্ত্র পদে |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে বিএনপির ভোটব্যাংকের ওপর। স্থানীয় নেতাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভোট নির্ভর করে। এখন যদি দলীয় বা জোট প্রার্থীর বিপরীতে হেভিওয়েট নেতা স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ান, ভোট বিভক্ত হবে। এই ‘ভোট বিভাজন’ সরাসরি প্রতিপক্ষের পক্ষে কাজ করবে, ফলে বহু আসনে নিশ্চিত প্রার্থীরা পরাজিত হতে পারেন।
বিএনপির হাইকমান্ড এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্পষ্ট জানিয়েছেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের জন্য কোনো ছাড় নেই। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর মধ্যে যারা মনোনয়ন সরিয়ে নেবেন না, তাদের কেবল বহিষ্কারই নয়, আজীবন সদস্যপদ বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
তবে যদি বিদ্রোহীরা মাঠ ছাড়তে অস্বীকার করেন, ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। দলটির নেতাদের এখন মুখ্য চ্যালেঞ্জ হল—ভোটব্যাংক রক্ষা করা এবং বিদ্রোহী নেতাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
— নিউজ ডেস্ক, খবরওয়ালা