খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হিমেল (২১) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্তকে আটক করার সময় তার স্বজন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। আজ বুধবার সন্ধ্যার পর সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বাসভবনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের তাৎক্ষণিক উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার বিকেলে আট বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী শিশুটি নিজের বাসার বাইরে বের হয়। এর বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শিশুটি ঘরে ফিরে না আসায় তার মা-বাবা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা যখন চরম উদ্বিগ্ন, ঠিক তখনই সন্ধ্যার দিকে শিশুটি অত্যন্ত আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত অবস্থায় নিজ বাসার দিকে দৌড়ে আসে।
বাসায় ফিরে শিশুটি তার মা-বাবার কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। সে জানায় যে, মো. সালাউদ্দিনের ছেলে হিমেল (২১) তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে। সন্তানের মুখে এই গুরুতর ও আপত্তিকর ঘটনা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারা দ্রুত সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত যুবক হিমেলের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, অভিযুক্ত হিমেল সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে অবস্থান করছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল ওই বাড়িতে প্রবেশ করে এবং অভিযুক্ত হিমেলকে আটক করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ঠিক সেই মুহূর্তেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবককে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা চিৎকার-চেঁচামেচি করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে একদল লোক একত্রিত হয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেন এবং আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে অভিযানে আগে থেকেই পর্যাপ্ত সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত অনুধাবন করায় দুর্বৃত্তদের সেই হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা সফল হতে পারেনি।
উদ্ধার অভিযান এবং অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেওয়ার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি এবং আইনি পদক্ষেপের খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো:
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করার অপরাধে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা এবং যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে থানা কর্তৃপক্ষ।