খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে মাঘ ১৪৩২ | ৩০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে যে স্থবিরতা ও হতাশা বিরাজ করছিল, তা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা সংকটের কারণে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত এবং ভেন্যু পরিবর্তনে আইসিসি-র অসম্মতি—সব মিলিয়ে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দেশের ক্রিকেট। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখা এবং আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ফেব্রুয়ারি মাসেই একটি বিশেষ ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বিসিবি।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নিতে না পারা কেবল ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যই হতাশাজনক নয়, বরং এটি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলেছে। এই শূন্যতা পূরণে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সাথে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন। সরকারের পক্ষ থেকেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন বিশ্বকাপের সমসাময়িক সময়ে দেশে একটি মানসম্মত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম নিশ্চিত করেছেন যে, খুব শীঘ্রই এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
নিচে প্রস্তাবিত এই ঘরোয়া ওয়ানডে টুর্নামেন্টের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরা হলো:
সারণি: বিসিবি আয়োজিত বিশেষ ওয়ানডে টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য কাঠামো
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও পরিকল্পনা |
| টুর্নামেন্টের ফরম্যাট | ৫০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচ |
| অংশগ্রহণকারী দল | মোট ৪টি দল (জাতীয় ও ছায়া দলের ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে) |
| আয়োজনকাল | ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস (বিশ্বকাপ চলাকালীন) |
| মুখ্য উদ্দেশ্য | ক্রিকেটারদের স্কিল ধরে রাখা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা |
| পরবর্তী লক্ষ্য | মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রস্তুতি |
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট কমিটির সাথে সমন্বয় করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দল গঠন ও সূচি চূড়ান্ত করা হবে। মূলত জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য এবং জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিয়ে চারটি শক্তিশালী দল গঠন করা হবে। বিসিবি এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ বা ম্যাচ ফির ব্যবস্থা রাখছে, যা বিশ্বকাপের আর্থিক অভাব কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
পূর্ববর্তী সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ’ (বিসিএল) হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে। সেই সিরিজের যথাযথ প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করেই লাল বলের পরিবর্তে সাদা বলের এই ওয়ানডে টুর্নামেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় দুই টেস্টের সিরিজের আগে বিসিএল আয়োজনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিসিবির এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেট সমর্থকদের মনে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজের জন্য ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে। যদিও বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজ পতাকার অনুপস্থিতি পীড়াদায়ক, তবে ঘরের মাঠে এই লড়াই ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।