অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ দিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার মার্ক চ্যাপম্যান। তবে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা তিনি চালিয়ে যাবেন। এজন্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একটি বিশেষ আংশিক বা ক্যাজুয়াল চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন এই ৩০ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
নতুন এই ক্যাজুয়াল চুক্তির ফলে চ্যাপম্যানের ওপর নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া মৌসুমে সব ম্যাচে খেলার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজের সুবিধাজনক সময়ে অংশ নেওয়ার অবাধ সুযোগ পাবেন তিনি। আগামী ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিগ ব্যাশ লিগকে কেন্দ্র করেই মূলত তাঁর এই সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম এবং অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতদিন কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে উভয় টুর্নামেন্টে একসাথে অংশ নেওয়া সম্ভব ছিল না। ক্যাজুয়াল চুক্তিতে চলে আসায় সেই আইনি বাধা এখন আর থাকছে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজেদের স্বাধীনতা বাড়াতে নিউজিল্যান্ডের একাধিক ক্রিকেটার একই পথে হেঁটেছেন। চ্যাপম্যানের আগে ফিন অ্যালেন, লকি ফার্গুসন, অ্যাডাম মিলনে ও টিম সেফার্টও বোর্ডের পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে ক্যাজুয়াল চুক্তির আওতায় এসেছেন।
তবে চুক্তি বদলালেও নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের প্রতি নিজের সর্বোচ্চ নিবেদনের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন চ্যাপম্যান। আগামী নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সাদা বলের (ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি) সিরিজে কিউই দলের হয়ে তাঁর মাঠে নামার কথা রয়েছে। এই সিরিজ নিয়ে নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করার পাশাপাশি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি নমনীয়তা দেখানোয় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে মার্ক চ্যাপম্যান কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে দেওয়ায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের খেলোয়াড় তালিকায় একটি স্থান খালি হয়। সেই শূন্য স্থান পূরণে দ্রুতগতির পেসার ম্যাট ফিশারকে পূর্ণকালীন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে এনজেডসি।
ফিশারকে নতুন চুক্তিতে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাচক গ্যাভিন লারসেন। তিনি জানান, সামনে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ রয়েছে। দীর্ঘ ও কঠিন এই আন্তর্জাতিক সফরগুলোতে বোলিং বিভাগের ভারসাম্য রক্ষা ও পেস আক্রমণের ধার বাড়াতে ফিশারের মতো তরুণ ও দ্রুতগতির বোলারের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


