বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিজয় উৎসব। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই উৎসব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আত্মত্যাগ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। যাঁদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল স্বাধীনতা, সেই অগণিত বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণেই উৎসবের প্রতিটি আয়োজন সাজানো হয়েছে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগে।
সংগ্রাম, দৃঢ়তা, আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা—এই সব অনুভূতির মেলবন্ধনে উৎসবের মূল সুর নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়কে সাংস্কৃতিক ভাষায় প্রকাশ করতে নানা রকম পরিবেশনা যুক্ত করা হয় অনুষ্ঠানের সূচিতে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ‘বিজয় দিবস কনসার্ট’। দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই কনসার্ট বিজয়ের আনন্দকে ছড়িয়ে দেবে সংগীতের শক্তিশালী আবেশে।
এই কনসার্টে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও ব্যান্ডগুলোর তালিকা
শিল্পী/ব্যান্ড | পরিবেশনার ধরন
সায়ান | আধুনিক ব্যান্ড সংগীত
শিরোনামহীন | বিকল্প ধারার গান
লালন | ফোক ও ব্যান্ড ফিউশন
বাংলা ফাইভ | দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান
টংয়ের গান | লোকজ সংগীত
আফটার ম্যাথ | আধুনিক ব্যান্ড সংগীত
ফারিয়া ইলা লালালা | কণ্ঠসংগীত
ফিরোজ জং | একক পরিবেশনা
এফ মাইনর | ব্যান্ড সংগীত
এর পাশাপাশি একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে পরিবেশিত হবে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের কালজয়ী গান। মুক্তিযুদ্ধকালীন এই গানগুলো একদিকে যেমন ইতিহাসের স্মারক, তেমনি আজও অনুপ্রেরণার শক্তিশালী উৎস।
উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় সোমবার সন্ধ্যায়। সেই দিনের আয়োজনে দর্শকদের জন্য ছিল অ্যাক্রোব্যাটিক শো ও যাত্রাপালা। শিল্পকলা একাডেমির বড়দের, জুনিয়র ও শিশু অ্যাক্রোব্যাটিক দল পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করে ভারসাম্য, সাহস ও নিয়ন্ত্রণের নান্দনিক প্রদর্শনী। সিনিয়র দলের ‘জলি সিমেন্স’ পরিবেশনা দিয়ে শুরু হওয়া শো দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর শিশু ও জুনিয়র দলের ব্ল্যাংকেট ব্যালেন্স, ক্যাপ ড্যান্স ও ল্যাডার ব্যালেন্স হেমন্তের সন্ধ্যায় এক অনন্য আবহ তৈরি করে।
পরবর্তী অংশে কুংফু আর্ট, রিং ড্যান্স, নেক আয়রন বার, হাইসাইকেল, ব্যারেল ব্যালেন্স, রোপ জাম্পসহ নানা অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনা দর্শকদের করতালিতে ভাসিয়ে দেয়। সম্মিলিত পরিবেশনায় হাড়ি ও লাঠি, দিয়াবো ব্যালেন্স ও মার্শাল আর্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সংস্কৃতির আলোয় উদ্ভাসিত করে তোলে।
অ্যাক্রোব্যাটিক পর্ব শেষে শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিট পরিবেশন করে জীবনীভিত্তিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। পালাকার ঋজু লক্ষ্মী অবরোধের এই প্রযোজনাটি পরিচালনা করেন শামীম খন্দকার। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অথচ কম আলোচিত অধ্যায় নতুনভাবে উপস্থাপিত হয় দর্শকদের সামনে। সব মিলিয়ে বিজয় উৎসব হয়ে উঠেছে স্মৃতি, শিল্প ও দেশপ্রেমের এক অনবদ্য মিলনমেলা।



