বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত ১৭ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি—বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস ও বিদ্যুৎ খাতের অর্জন নিয়ে এমন বক্তব্য দিতে পারেন।
নসরুল হামিদ বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৭১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু জিডিপি ছিল প্রায় ৪৯০ ডলার। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে দেশের জিডিপি ৪৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছায়। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতি কয়েক গুণ সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে এসেছে।
এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণশক্তি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ফলে দেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি বেড়েছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশ ঘটেছে।
নসরুল হামিদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং এলএনজি আমদানির মাধ্যমে শিল্প ও আবাসিক খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নসরুল হামিদ বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সে সময় দেশে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হতো। বিদ্যুতের দাবিতে মানুষকে রাজপথে নামতে হয়েছিল। ২০০৬ সালের কানসাটের বিদ্যুৎ আন্দোলনে পুলিশ ও বিডিআরের গুলিতে প্রায় ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়িয়ে খাম্বা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকারের আমলে যে বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। নিজের দায়িত্ব পালনকালের রেকর্ড পর্যালোচনা করে বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রীকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী।
পোস্টের শেষাংশে নসরুল হামিদ বলেন, উন্নয়নের ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। নিজের অতীতের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে অন্যের অর্জন অস্বীকার করলেই বাস্তবতা বদলে যায় না। দেশের মানুষ অতীত ও বর্তমান—দুটিই দেখছে। কে বিদ্যুৎ দিতে পেরেছে আর কার আমলে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষের ওপর গুলি চালানো হয়েছে, সেই হিসাব মানুষ ভুলে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


