নরসিংদী শহরে বিনামূল্যে দেশীয় মদ দিতে রাজি না হওয়ায় লাইসেন্সধারী একটি মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার নির্মম ঘটনার পাঁচ দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মারা যান। নিহত রাব্বি নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকার একটি সরকার অনুমোদিত দেশীয় মদের দোকানে কাউন্টার কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার দুপুরে। নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় অবস্থিত ওই দোকানে আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন ব্যক্তি এসে বিনামূল্যে ১০ লিটার দেশীয় মদ দাবি করেন। দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বি তাঁদের বিনামূল্যে মদ দিতে সাফ অস্বীকার করেন। এই নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাব্বির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা রাব্বিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে রাখেন। টানা পাঁচ দিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন রাব্বি। তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবার ও স্থানীয় স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই ঘটনার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিহতের মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হোটেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সরকার ও তাঁর ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। রাব্বির মৃত্যুর পর পুলিশ অভিযান জোরদার করে। নরসিংদী সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী অভিযানে গাবতলী এলাকা থেকে কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে অপর এক আসামিকে আটক করা হয়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআরএম আল মামুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগুনে দগ্ধ রাব্বির মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন। হত্যা মামলায় ইতিমধ্যেই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ সরকারসহ অন্য পলাতকদের গ্রেপ্তারে একাধিক পুলিশি দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


