কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীমান্ত এলাকা জামাইর দোকান প্রাঙ্গণে দিনভর হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, দোকানপাট লুটপাট এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুঁজকরা এবং নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
সহিংসতার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাথেরপেটুয়া বাজারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের এক ব্যক্তি অশালীন মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দুদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে সেই জেরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, চাপাতি এবং পিস্তল নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
সংঘর্ষকালে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হয়। পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ তাঁদের কারখানায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কারখানার নিরাপত্তায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলে, অফিসে ঢুকে ব্যাপক তোলপাড় চালায় এবং চত্বরে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সাথে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও দোকানে লুটপাট চালানো হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের হামলায় পুঁজকরা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।
অন্যদিকে বিপরীত অভিযোগ তুলেছেন হাতিমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল। তাঁর দাবি, নারী হয়রানির প্রতিবাদের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদের বাড়িঘর ও বাজারে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে হাতিমারা গ্রামেরও ৮ থেকে ১০ জন বাসিন্দা মারাত্মকভাবে আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে লাকসাম ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্রতা বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ এবং লাকসাম থানার পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে যেকোনো নতুন সহিংসতা এড়াতে পুরো সীমান্ত জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ ও নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম জানান, নারী সংক্রান্ত অতি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


