বিয়ের প্রলোভনে লোহাগাড়ায় এনে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ায় মোবাইল ফোনের ভুল নম্বরে পরিচয়ের সূত্রে গড়ে ওঠা প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারের রামু থেকে বিয়ের আশ্বাসে আসা ওই তরুণীকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।
গত বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার হারিছ মিয়া ও এহছান এবং একই উপজেলার সড়াইয়া এয়াছিনপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটার পর অভিযুক্তরা নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করলেও লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে আটক করতে সক্ষম হয়।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে একটি ভুল নম্বরের ফোনকলের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে লোহাগাড়ার তরুণ এহছানের প্রথম যোগাযোগ হয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ হতে থাকে এবং তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। সম্পর্কের টান বাড়লে এহছান ওই তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাকে ঘর বাঁধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোহাগাড়ায় চলে আসার আহ্বান জানান। প্রেমিক এহছানের কথায় সাড়া দিয়ে বাড়ি ছাড়েন ওই তরুণী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের রামু থেকে বাসে উঠে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে লোহাগাড়ার কেরানীহাট এলাকায় পৌঁছান ওই তরুণী। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল প্রেমিক এহছান। কেরানীহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে সে তরুণীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরবর্তীতে তাকে কোনো নিরাপদ স্থানে না নিয়ে সরাসরি লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার নির্জন একটি বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।
নির্জন সেই বাগানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল এহছানের দুই সহযোগী হারিছ মিয়া ও নজরুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছানোর পরই তরুণীকে জিম্মি করে ফেলা হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত তাকে পালাক্রমে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই নৃশংস ঘটনা ঘটানোর পর হামলাকারীরা ভুক্তভোগী তরুণীকে ঘটনা গোপন রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগী নারী উদ্ধার পেয়ে লোহাগাড়া থানায় উপস্থিত হন এবং পুরো ঘটনা জানিয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই লোহাগাড়া থানা পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে। ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আসামিদের ধরতে উপজেলার বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়। টানা দুই দিনের অভিযানে ফারাঙ্গা ও এয়াছিনপাড়া এলাকা থেকে জড়িত তিন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বুধবার সকালে তাদের চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।