নওগাঁ: যৌথ টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে নওগাঁ সদর উপজেলা থেকে ২৪৫ কেজি ওজনের একটি বিরল কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে বসতঘরের মাটির নিচে প্রত্নসম্পদটি গোপনে পুঁতে রাখার অভিযোগে মোস্তাফা আলী (৩৪) নামের এক যুবককে আটক করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চক-রাজবল্লভ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কষ্টিপাথরের এই বিশাল মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
আটক মোস্তাফা আলী চক-রাজবল্লভ গ্রামের গহির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৬ বিজিবির কাছে খবর আসে যে চক-রাজবল্লভ এলাকায় একটি পাচারকারী চক্র ঐতিহাসিক ও মূল্যবান কষ্টিপাথরের একটি মূর্তি পাচারের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রেখেছে। খবর পাওয়ার পরপরই নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানা এবং নওগাঁ সদর থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টাস্কফোর্স দল।
টাস্কফোর্সের দলটি বুধবার দুপুরে মোস্তাফা আলীর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরের মেঝে পরীক্ষা করার সময় কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে সেখানে মাটি খুঁড়তেই বের হয়ে আসে প্রায় ২৪৫ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গটি। আন্তর্জাতিক বাজারে বা প্রাচীন প্রত্নবস্তুর অবৈধ হাটে কষ্টিপাথরের মূর্তির চাহিদা ও আনুমানিক মূল্য অনেক বেশি। উদ্ধার অভিযান শেষে আটক মোস্তাফা আলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে জব্দ করা প্রত্নসম্পদসহ তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নওগাঁ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নওগাঁ জেলা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এখানে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারসহ বহু প্রাচীন রাজবাড়ি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। এই সুযোগে স্থানীয় চক্রগুলো অনেক সময়ই এলাকা থেকে কষ্টিপাথরসহ নানা প্রাচীন প্রত্নসামগ্রী অবৈধভাবে সংগ্রহ করে সীমান্ত পার করার অপচেষ্টা করে থাকে। আটক মোস্তাফা আলীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত প্রত্নসম্পদ রক্ষা আইন ও চোরাচালান বিরোধী ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত এই শিবলিঙ্গটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে গবেষকরা এর সঠিক সময়কাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ করতে পারেন।
অভিযানের বিষয়ে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকা এবং নওগাঁ ব্যাটালিয়নের প্রশাসনিক দায়িত্বপূর্ণ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অবৈধ চোরাচালান, প্রত্নসম্পদ পাচার এবং মাদকের বিরুদ্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।


