ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড ওলিভিয়ের জিরুডের বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার এবার শেষের দিকে। ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছে খেলোয়াড়ি জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিরুড জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমই সম্ভবত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর শেষ মৌসুম হতে যাচ্ছে।
অবসরের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে গিয়ে জিরুড বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার মনে হয়, খুব সম্ভবত এটিই আমার শেষ মৌসুম হতে যাচ্ছে।’ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে এখন ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমান মুহূর্তকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। মাঠে যতটা সময় বাকি আছে, সেটি পুরোপুরি উপভোগ করতে চান ফ্রান্সের এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।
জাতীয় দলের হয়ে জিরুডের অর্জনের তালিকা বেশ সমৃদ্ধ। ফ্রান্সের জার্সিতে তিনি খেলেছেন ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং করেছেন ৫৭ গোল। একসময় এই গোলসংখ্যাই তাঁকে ফরাসি জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছিল।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে থিয়েরি অঁরিকে ছাড়িয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন জিরুড। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটি ছিল তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত অর্জন। তবে রেকর্ডটি পরে তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে গোলের হিসাবে এখন এমবাপ্পেই শীর্ষে।
তবে জিরুডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য নিঃসন্দেহে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে ফ্রান্সের শিরোপাজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। দলের আক্রমণভাগে তাঁর উপস্থিতি এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় ফরাসিদের সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্লাব ফুটবলেও জিরুডের পথচলা ছিল সাফল্যে ভরা। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের হয়ে লিগ শিরোপা জেতার পর ইংল্যান্ডের আর্সেনালে দীর্ঘ সময় খেলেছেন তিনি। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে তিনবার এফএ কাপ জয়ের স্বাদ পান। ক্যারিয়ারে মোট চারবার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছেন জিরুড।
চেলসির হয়ে তাঁর ট্রফির তালিকায় যোগ হয় আরও বড় অর্জন। ২০২১ সালে ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতেন তিনি। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার ট্রফি জিরুডের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য হয়ে আছে।
ইতালিতেও নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড। এসি মিলানের হয়ে লিগ শিরোপা জেতেন তিনি। ফলে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও ইতালির ফুটবলে খেলে ঘরোয়া পর্যায়ে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন জিরুড।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা, জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড অর্জন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় এবং একাধিক ঘরোয়া শিরোপা—সব মিলিয়ে জিরুডের ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। বিশেষ করে ফ্রান্সের হয়ে ৫৭ গোল এবং ১৩৭ ম্যাচের আন্তর্জাতিক রেকর্ড তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের সাক্ষ্য দেয়।
এখন সেই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় সামনে। জিরুড আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের দিন ঘোষণা না করলেও তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—চলতি মৌসুম শেষেই হয়তো মাঠের সঙ্গে খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটবে। তাই বুট জোড়া তুলে রাখার আগে বাকি সময়টুকু মাঠে উপভোগ করতেই মনোযোগী এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।


