বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রামে নামতে পারেনি ৩ ফ্লাইট, রেকর্ড বৃষ্টিপাত

টানা ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়াসহ বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে এই ফ্লাইটগুলো চট্টগ্রামে নামতে ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডাইভার্ট বা সরিয়ে নেওয়া হয়। অবতরণে ব্যর্থ হওয়া এই ফ্লাইটগুলোর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক এবং একটি অভ্যন্তরীণ রুটের।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রানওয়ের দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি কমে যায়, যা নিরাপদ অবতরণের জন্য বড় অন্তরায়। এই কারণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ (আবুধাবি-চট্টগ্রাম) ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় চলে যায়। একই পরিস্থিতির মুখে পড়ে এয়ার অ্যারাবিয়ার জি-৯-৫২৬ (শারজাহ-চট্টগ্রাম) ফ্লাইটটিও ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অভ্যন্তরীণ রুটের বিজি-১২১ ফ্লাইটটি চট্টগ্রামে নামার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে যায়।

জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ওই সময়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। এত তীব্র বাতাসে উড়োজাহাজ অবতরণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিমান নামতে না পারলেও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে শিডিউল অনুযায়ী সব ফ্লাইটের ডিপার্চার বা উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। অবশ্য সামগ্রিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে এদিন বিমানবন্দরের সব অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিমানের স্বাভাবিক সিডিউল পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

চট্টগ্রামে গত রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া সাধারণ বৃষ্টিপাত সোমবার নাগাদ অতি ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। সোমবার দিনভর দুর্যোগের পর রাতভর একটানা বৃষ্টি হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেও নগরজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে। এর ফলে বিমানবন্দরের পাশাপাশি পুরো নগরীতেই এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে রেকর্ড ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই এই তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অতি ভারী এই বর্ষণের কারণে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকা নিরাপদ রাখতে এবং যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।