ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০টি বসতঘর পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর মধ্যে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুনে পুড়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামের বাসিন্দা আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ঘরটির একটি অংশে আগুন দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরগুলো কাছাকাছি থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে।
আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে তা নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে আগুনের বিস্তার আরও বাড়ার আশঙ্কা কমে যায়। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বেশ কয়েকটি বসতঘর আগুনে আক্রান্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। বিস্তারিত হিসাব পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


