মমতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক সহিংসতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বাংলাদেশকে জড়ানোর যে কোনো চেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।” ​

তিনি আরও বলেন, “ভারতে মুসলিমদের ওপর হামলা এবং জানমালের ক্ষতির ঘটনার নিন্দা করছে বাংলাদেশ। ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই আবেদন কেবল ভারত সরকারের কাছে নয়, আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও জানানো হয়েছে।”​

এর আগে, বুধবার (১৬ এপ্রিল) কলকাতায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সঙ্গে এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের দুষ্কৃতকারীদের মুর্শিদাবাদে নিয়ে এসে পূর্বপরিকল্পিত দাঙ্গা করানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বিএসএফ সীমান্ত এলাকা থেকে টাকা দিয়ে লোক নিয়ে এসেছে।” ​

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশ থেকে লোক এসে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গার ঘটনা ঘটাচ্ছে।”​

তবে, মুর্শিদাবাদের সহিংসতায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই ভারতীয় নাগরিক। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা। তাদের মতে, যদি সত্যিই বাংলাদেশ থেকে মানুষ এসে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তাহলে এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশিকেও গ্রেপ্তার করা গেল না কেন?​

প্রবীণ সাংবাদিক আশিস গুপ্ত বলেন, “বছরকয়েক আগে কলকাতায় ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে মশা এসে কলকাতায় ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে। কোনো বিষয় হাতের বাইরে চলে গেলেই বাংলাদেশকে জড়িয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এ তার এক আশ্চর্য স্বভাব।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে, তাতে সন্দেহ নেই। এই ধরনের মন্তব্য করার আগে এক মুখ্যমন্ত্রীর কূটনৈতিক বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত। হাতে তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত।”​

সাংবাদিক শরদ গুপ্তাও আশিসের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, “বাংলাদেশে পালা বদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টেনশন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য পরিস্থিতি আরো খারাপ করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য করার আগে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা উচিত ছিল।”​

মুর্শিদাবাদের সহিংসতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরকে দোষারোপ করছে। এদিকে, কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, “এই সহিংসতার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়ই দায়ী। পরিবারগুলোর নির্বাসন বন্ধ হওয়া উচিত।” 

মুর্শিদাবাদের সহিংসতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা তো বটেই, বিশেষজ্ঞদের একাংশও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। তাদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।​ এই পরিস্থিতিতে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষেরই দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

 

খবরওয়ালা/এমবি

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।