রাজধানীর মহাখালীতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তালহা রহমান (৩৩) নামে এক যুবদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত তালহাকে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
তালহা রহমান মহাখালী ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক। তিনি মহাখালী রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে তালহাকে মহাখালী এলাকার একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেতে বলা হয়। ফোন পেয়ে তিনি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আওতাধীন মহাখালী এসএ পরিবহণ ও এ বিএম পাম্পের মধ্যবর্তী একটি গলিতে যান।
তালহার ছোট ভাই মো. মুয়াম্মার রহমানের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তালহাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তালহাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত চলে যায় বলে জানান তার ভাই। পরে স্বজনরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে কী কারণে তালহাকে ফোন করে ওই স্থানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুয়াম্মার রহমান। হামলাকারীদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফোনে ডেকে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার পর হামলার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।



