গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ২০ মিনিটে মামুনুর রশিদ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মামুনুর রশিদ একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর হাজতি নম্বর ছিল ৫১০৫/২৫। গত রোববার হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। একই সঙ্গে বিষয়টি খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তার জন্য খুলনা কারাগারের সদস্যদের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাঁর মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় যশোরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী।
মামুনুর রশিদ যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি নিজেও শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
যে ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন মামুন
মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি তাঁর মা আনোয়ারা বেগমকে (৫৮) বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় তাঁর মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
একই পরিবারের এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। পেশায় শিক্ষক একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ওই ঘটনার পর মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলো।
কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার আসামির বিচারিক কার্যক্রমে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মামলার আনুষ্ঠানিক পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।


