মাগুরার শালিখা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ছুরিকাঘাতের শিকার হন। এ ঘটনায় অপু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের হরিশপুর এলাকায় আলেকের ইটভাটার কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রাকিবুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শালিখা থানা পুলিশের একটি দল হরিশপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে অপু নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করেন পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় এএসআই রাকিবুল ইসলাম তাঁকে জাপটে ধরলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অপু ছুরি দিয়ে রাকিবুল ইসলামকে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং অপুকে আটক করেন। পরে তাঁরা তাঁকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আহত এএসআই রাকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁর আঘাতের ধরন ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশের এক সদস্য ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপু নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পালিয়ে যাওয়া অন্য ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে জানান তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশের সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় আটক অপু মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা নির্ধারণের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।


