মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর জামালপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে চর জামালপুর ঘাটসংলগ্ন নদীতে স্থানীয়রা মরদেহটি ভেসে থাকতে দেখেন। নদীর পানিতে একটি লাশ ভেসে থাকার খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, দুপুরের দিকে নদীর পানিতে হঠাৎ একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। কৌতূহলবশত কয়েকজন পাড়ের কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হন যে এটি মানুষের মৃতদেহ। এরপর দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠন দেখে প্রাথমিক ধারণায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একজন নারীর লাশ। তবে নদীর পানিতে থাকার কারণে কিংবা তাৎক্ষণিক কোনো কাগজপত্র না পাওয়ায় ওই নারীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নদীতে ভেসে আসা এই লাশ নিয়ে পুরো চর জামালপুর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নারীর মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি তাকে অন্য কোথাও হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানান ধোঁয়াশা। কোনো দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে পরিকল্পিত অপরাধ জড়িয়ে আছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও উপস্থিত চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত এই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করার দাবি তুলেছেন। এ ঘটনায় কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা চক্র জড়িত থাকলে তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তাঁরা।
খবর পাওয়ার পরপরই মানিকগঞ্জ সদর থানার পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ভাসমান অবস্থান থেকে নিখুঁতভাবে মরদেহটি নদী থেকে তীরে তুলে নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে মরদেহের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন এবং উপস্থিত স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিক কিছু বিবরণ নথিভুক্ত করেন।
সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহতের পরিচয় সনাক্তের জন্য আশপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে নারীর পরিচয় উদঘাটনে পুলিশের একটি টিম কাজ শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


