রাজধানীর মিরপুরে মেট্রোরেলের পিলারগুলোতে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ‘লেটস রিমেক জুলাই গ্রাফিতি’ শীর্ষক এ কর্মসূচিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবিও স্থান পাবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। নগরবাসীর অংশগ্রহণে মেট্রোরেলের পিলারগুলোতে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার মাধ্যমে রাজধানীর দৃশ্যমান অবকাঠামোকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে চায় সংস্থাটি।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, এ উদ্যোগে নগরবাসী সরাসরি অংশ নিতে পারবেন। গ্রাফিতি আঁকার জন্য প্রয়োজনীয় রং, ব্রাশসহ অন্যান্য উপকরণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নগরের উন্মুক্ত স্থানে শিল্পচর্চার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি আন্দোলনের ইতিহাস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৭২ ঘণ্টার আগেই সরানো হয় পোস্টার
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগে মেট্রোরেলের পিলার থেকে পোস্টার অপসারণের জন্য তিনি ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পোস্টার অপসারণের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি। পোস্টার অপসারণের পর পিলারগুলোতে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক গ্রাফিতি আঁকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন এবং বিভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন, তাঁদের স্মৃতি যেন মানুষের মনে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেলের পিলারগুলোতে গ্রাফিতি স্থাপনের মাধ্যমে তাঁদের অবদান স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করা হবে।
গ্রাফিতিতে থাকবে খালেদা জিয়ার ছবি
কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত দিক হলো, গ্রাফিতিতে খালেদা জিয়ার ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত। ডিএনসিসি প্রশাসক তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনেও খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এ বিবেচনায় তাঁর ছবি মেট্রোরেলের পিলারে আঁকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও গ্রাফিতিতে স্থান পাবে। ইতিহাসে যাঁদের যে ধরনের অবদান রয়েছে, তা বিবেচনা করেই তাঁদের তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং দেশের ইতিহাসে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের যথাযথভাবে স্মরণ করাই কর্মসূচির লক্ষ্য।
তবে কোন কোন ব্যক্তির ছবি আঁকা হবে, তাঁদের নির্বাচন কীভাবে করা হবে এবং গ্রাফিতি আঁকার কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নগরের সৌন্দর্য ও স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ
মেট্রোরেলের পিলারগুলো রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোর পাশে অবস্থিত হওয়ায় নগরের সামগ্রিক দৃশ্যমান পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী লাগানো হলে নগরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য ব্যাহত হতে পারে। সেগুলো সরিয়ে পরিকল্পিত গ্রাফিতি আঁকার মাধ্যমে পিলারগুলোকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএনসিসি।
এ কর্মসূচিতে নগরবাসীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ। এতে নাগরিকেরা শুধু শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগই পাবেন না, বরং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রক্রিয়াতেও যুক্ত হতে পারবেন।
তবে গ্রাফিতির চূড়ান্ত নকশা, ছবি নির্বাচনের মানদণ্ড এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে কর্মসূচির পরিধি আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত ডিএনসিসির লক্ষ্য হলো, মিরপুরের মেট্রোরেলের পিলারগুলোকে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান তুলে ধরার দৃশ্যমান মাধ্যমে পরিণত করা। একই সঙ্গে নগরের সৌন্দর্য বাড়াতে জনসম্পৃক্ত একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা।


