একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রোগীর দেহের টিস্যু, রক্ত ও তরল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ধরন ও কারণ বের করতে সাহায্য করেন। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা পূরণের লক্ষ্যে দেশের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এখন বহু চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সাথে বেড়েছে রোগ নির্ণয়ের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা। এগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের বড় চাহিদা রয়েছে।
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
এক নজরে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
সাধারণ পদবী: মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
বিভাগ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ১ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন সীমা: ৳১৫,০০০ – প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
মূল স্কিল: সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের দক্ষতা, ল্যাবরেটরি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা, গভীর মনোযোগ
বিশেষ স্কিল: ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগের দক্ষতা
মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পেশা সম্পর্কিত সচরাচর প্রশ্ন
- একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?
- একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কাজ কী?
- একজন মেডিকেল ‘টেকনোলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?
- একজন মেডিকেল ‘টেকনোলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
- কোথায় পড়বেন মেডিকেল টেকনোলজি নিয়ে?
- একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?
- একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?
একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?
- সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল
- সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র
- ডায়াগনস্টিকস ল্যাব
- রোগ নির্ণয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগ
একজন মেডিকেল ‘টেকনোলজিস্টের কাজ কী?
- প্যাথলজিস্টের ক্ষেত্রে রোগীর মল, মূত্র, রক্ত ও কাশি সংগ্রহ করা ও পরীক্ষা করা
- রেডিওথেরাপি টেকনোলজিস্টের ক্ষেত্রে ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে রেডিওথেরাপি প্রদান করা
- রেডিওলজি ও ইমেজিং টেকনোলজিস্টের ক্ষেত্রে এক্স-রে, এমআরআই ও সিটি স্ক্যান করা
- ডেন্টাল টেকনোলজিস্টের ক্ষেত্রে দাঁত তোলা, বাঁধানো, স্কেলিং, ও ফিলিংয়ের কাজে ডেন্টিস্টকে সাহায্য করা
- পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা
- রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রেকর্ড রাখা
- ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ করা
- ক্ষেত্রবিশেষে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা
- নতুন কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া
একজন মেডিকেল ‘টেকনোলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হয়?
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এ পেশায় আসতে হলে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা কোর্স করা থাকতে হবে আপনার। তবে কিছু ক্ষেত্রে বিএসসি ডিগ্রি চাওয়া হয়।
অভিজ্ঞতাঃ অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠানে আগে ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা নিতে হবে।
একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?
- মেডিকেল টেকনোলজি সম্পর্কিত জ্ঞান
- রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার জানা
- রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা
- সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের দক্ষতা
- গভীর মনোযোগ সহকারে কাজ করার মানসিকতা
কোথায় পড়বেন মেডিকেল টেকনোলজি?
সারাদেশে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীন ২৩৮টি মেডিকেল টেকনোলজি ইন্সটিটিউট গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি ডিগ্রি দেওয়া হয়। এ কোর্সে যে কোন বিভাগ থেকে জিপিএ ২.৫০ নিয়ে এসএসসি পাশ করলেই ভর্তি হওয়া যায়।

গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৩৮টি মেডিকেল টেকনোলজি ইন্সটিটিউটে মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ক বিভিন্ন ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে। যেমনঃ
ল্যাবরেটরি মেডিকেল টেকনোলজি বা প্যাথলজি
রেডিওথেরাপি টেকনোলজি
রেডিওলজি ও ইমেজিং টেকনোলজি
ডেন্টাল টেকনোলজি
ফিজিওথেরাপি
ইন্টিগ্রেটেড মেডিকেল টেকনোলজি
৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি পাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন ইন্সটিটিউট থেকে বিএসসি ইন ল্যাব মেডিসিন, বিএসসি ইন ডেন্টাল, বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি আর বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি) বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন।
একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?
শুরুতে বেতন ৳১০,০০০ – ৳১৫,০০০ হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তা ৳৪০,০০০ – ৳৫০,০০০ হয় (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩ মে, ২০১৩)।
সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভালো বেতনে কাজের সুযোগ আছে। এছাড়া, এনজিওগুলোতেও ভালো বেতন উপার্জন করা সম্ভব। যেমন, সেভ দ্য চিলড্রেনে ২ বছরের একজন অভিজ্ঞ প্যারামেডিক ৳১৮,০০০ – ৳২০,০০০ পেয়ে থাকেন।
ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন মেডিকেল’ টেকনোলজিস্টের?
মেডিকেল ‘টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মক্ষেত্রে বেকারত্বের হার খুব কম। শুরুতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় কাজের সুযোগ অনেক। অভিজ্ঞতা থাকলে বেসরকারি বড় বড় হাসপাতালে ভালো বেতন ও সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কাজ পাওয়া যায়।
মেডিকেল টেকনোলজিতে বিএসসি ডিগ্রি থাকলে কর্মক্ষেত্রে আরো সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হলে বিদেশে কাজের সুযোগ পাবেন।





