রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যক্তির পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী আকবর হোসেন শিবলুকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। নির্ধারিত জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন। তবে সেদিন রায় ঘোষণা সম্ভব না হওয়ায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বুধবার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধাপ ছিল। গত বছরের ২ ডিসেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আদালত মোট চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হন যে আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে বিড়ালটিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি “পিপলস ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার” নামের প্রাণীকল্যাণ সংগঠনের পক্ষে নাফিসা নওরীন চৌধুরী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন মোহাম্মদপুর থানাকে।
পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, আসামি আকবর হোসেন শিবলুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মোহাম্মদপুরের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের নবম তলায় বসবাসকারী মনসুর নামে এক ব্যক্তির পোষা বিড়ালটি নিখোঁজ হয়। পরে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আকবর হোসেন শিবলু বিড়ালটিকে ফুটবলের মতো লাথি মারছেন। লাথির আঘাতে বিড়ালটি নিথর হয়ে পড়ে গেলে তিনি পা দিয়ে চাপ দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি ভবনের এক প্রত্যক্ষদর্শী দেখতে পান এবং পরে বিষয়টি বিড়ালের মালিককে জানান। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিচের সারণিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা সংঘটনের তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| ঘটনার স্থান | মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার, মোহাম্ম্মদপুর, ঢাকা |
| মামলা দায়ের | ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| অভিযোগকারী | নাফিসা নওরীন চৌধুরী (পিপলস ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার) |
| সাক্ষীর সংখ্যা | ৪ জন |
| অভিযোগ গঠন | ১৪ জুলাই ২০২৫ |
| রায় ঘোষণা | ১১ মার্চ ২০২৬ |
| শাস্তি | ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা |
প্রাণী অধিকার কর্মীদের মতে, এই রায় প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইনি অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমাজে প্রাণী সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ আরও কঠোর হবে।



