খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের দর্শকদের কাছে এক বিশেষ আবেগের নাম বাপ্পারাজ। বিরহ, ত্যাগ আর নীরব ভালোবাসার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি এমন এক আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন, যা আজও দর্শকের স্মৃতিতে অম্লান। ‘তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থেকো’, ‘আমি তো একদিন চলে যাব’ কিংবা ‘তোমরা সবাই থাকো সুখে’—এমন বহু জনপ্রিয় গানের দৃশ্যে তার ঠোঁট মেলানো অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গভীর আবেগ জাগায়।
১১ মার্চ এই জনপ্রিয় অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ কোনো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন না করে এবারের জন্মদিন তিনি পরিবারের সঙ্গেই শান্তভাবে উদযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
বাপ্পারাজের আসল নাম রেজাউল করিম। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে। বাবার হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে চলচ্চিত্র জগতে তার অভিষেক ঘটে। রাজ্জাক পরিচালিত ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে শতাধিক চলচ্চিত্রে নিজের উপস্থিতি জানান দেন।
নব্বই দশকে বাপ্পারাজ মূলত রোমান্টিক ও ত্রিভূজ প্রেমের গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এসব সিনেমায় প্রায়ই তাকে দেখা যেত আত্মত্যাগী প্রেমিকের ভূমিকায়—যিনি নিজের ভালোবাসা ত্যাগ করে প্রিয় মানুষকে অন্য কারও হাতে তুলে দেন। এই ধরনের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের কারণে দর্শক তাকে ভালোবেসে ‘ছ্যাকা খাওয়া নায়ক’, ‘ব্যর্থ প্রেমের নায়ক’ কিংবা ‘মিস্টার স্যাক্রিফাইস’ নামে ডাকতে শুরু করেন।
একসময় দর্শকদের মধ্যে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল—যে ছবিতে বাপ্পারাজ থাকবেন, সেখানে গল্পের শেষদিকে তার চরিত্রটি করুণ পরিণতির দিকে যাবে। তবু সেই বেদনার মধ্যেই তিনি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তার সংযত অভিনয় আর আবেগঘন উপস্থিতির মাধ্যমে।
তার অভিনীত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নব্বই দশকের দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিচের সারণিতে তার উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্র তুলে ধরা হলো—
| চলচ্চিত্রের নাম | ধরণ | জনপ্রিয়তার কারণ |
|---|---|---|
| প্রেমের সমাধি | ত্রিভূজ প্রেম | আবেগঘন কাহিনি ও ত্যাগী প্রেমিক চরিত্র |
| প্রেমগীত | রোমান্টিক | জনপ্রিয় গান ও নাটকীয় প্রেমকাহিনি |
| হারানো প্রেম | রোমান্টিক-দুঃখঘন | বিচ্ছেদ ও স্মৃতিময় প্রেমের গল্প |
| ভুলোনা আমায় | রোমান্টিক | আবেগপ্রবণ অভিনয় |
| বুক ভরা ভালোবাসা | পারিবারিক রোমান্স | সম্পর্ক ও ত্যাগের গল্প |
| বাবা কেন চাকর | পারিবারিক | সামাজিক বার্তাধর্মী কাহিনি |
| সন্তান যখন শত্রু | পারিবারিক নাটক | পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আবেগ |
| সৎ ভাই | পারিবারিক | সম্পর্কের টানাপোড়েন |
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও হাত দিয়েছেন বাপ্পারাজ। তিনি ‘কাছের মানুষ রাতের মানুষ’ এবং ‘একজন লেখক’ নামে দুটি নাটক পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ‘কার্তুজ’ নামে একটি চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেছেন তিনি।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বড় পর্দায় তার উপস্থিতি কিছুটা কমে গেলেও মাঝে মাঝে ভিন্নধর্মী চরিত্রে তাকে দেখা গেছে। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেন ‘পোড়ামন ২’ চলচ্চিত্রে, যেখানে নায়ক সিয়ামের বড় ভাইয়ের চরিত্রে তার সংযত অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বাপ্পারাজ এক বিশেষ ধারা তৈরি করেছেন—যেখানে নায়ক মানেই সব সময় জয়ী নয়; কখনো কখনো ভালোবাসার ত্যাগই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় শক্তি। এই অনন্য অভিনয়ধারার জন্যই তিনি আজও দর্শকের কাছে স্মরণীয়।