যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।
গত দুই সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদরাসা, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।
ভাঙনকবলিতদের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দিলেও নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চরগিরিশ ইউনিয়নের নৌকাঘাট এলাকায় নদীর তীরে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। সেখানে বক্তারা চরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়ন নিয়ে ‘যমুনা’ নামে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি জানান এবং চরবাসীকে রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মনির মিয়া বলেন,“কয়েক দিনের ভাঙনে আমার ৩০ বিঘা জমির ধান ভেসে গেছে। গত এক মাসে দুইবার ঘর সরাতে হয়েছে।”
নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, উজানে প্রতিদিন কয়েকশ ড্রেজার চলার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, গত মাসেই দুই শতাধিক ঘরবাড়ি, বাজার, মসজিদ ও কয়েক শ একর আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাজিপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ফারুক বিএসসি বলেন,“নদীর পশ্চিম তীরে বাঁধ নির্মাণে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও পূর্বতীর রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাইমা জাহান সুমাইয়া জানান, তিনি মাত্র দুই দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবেন এবং দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হবে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী হাফিজুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/আশ



