ইংলিশ কাউন্টি দল এসেক্সের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দুটি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটারকে আগামী ৯ অক্টোবর ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে হাজির হতে হবে। মামলাটি ২০২৪ সালের মার্চে দক্ষিণ লন্ডনের ব্রিক্সটনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালথাম ফরেস্টের কুইন্স রোডের বাসিন্দা রবিন দাসের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই দুটি ধর্ষণের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ ব্রিক্সটনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে ওই গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগকারী নারীকে বিশেষায়িত কর্মকর্তারা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এখানে অভিযোগ ও আদালতের প্রক্রিয়ার বিষয়টি আলাদা করে দেখা জরুরি। রবিন দাসের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে; এর অর্থ আদালতে অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। ৯ অক্টোবরের নির্ধারিত হাজিরা মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার সময়ের সঙ্গে রবিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেরও যোগ রয়েছে। ২০২৬ মৌসুমে এসেক্সের হয়ে তার একমাত্র সিনিয়র ম্যাচ ছিল ২১ জুলাই মিডলসেক্সের বিপক্ষে মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপে। ওই ম্যাচে তিনি ওপেন করতে নেমে ৫৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ২২ রান করেন এবং পরে বোলার নোহ কর্নওয়েলের বলে আউট হন। ম্যাচটি ৪১ রানে জেতে মিডলসেক্স।
এর ঠিক দুই দিন পর, ২৩ জুলাই, রবিনের বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। এরপর থেকে তিনি এসেক্সের হয়ে আর খেলেননি। ক্লাবের সাম্প্রতিক দলীয় তথ্যেও তাকে অনুপলব্ধ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব জানিয়েছে, তাদের চুক্তিবদ্ধ এক খেলোয়াড় এমন একটি ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন, যা ক্লাবের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ক্লাবটি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও পেশাদার ক্রিকেট সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার কথা জানিয়েছে তারা।
এসেক্সে রবিন দাসের ক্রিকেট ক্যারিয়ার
রবিন দাসের জন্ম ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের লেটনস্টোনে। তিনি এসেক্স একাডেমি ও দ্বিতীয় একাদশের মাধ্যমে উঠে এসে ২০২০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে কাউন্টি দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক করেন। এসেক্সের অফিসিয়াল প্রোফাইল তাকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ওপেনিং ব্যাটার হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তিনি ১৩২ রানের ইনিংস খেলেন, যা এখনো তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। এসেক্সের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে তিনি নয়টি ম্যাচ খেলেছেন। পাশাপাশি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেও নিয়মিত সুযোগ পেয়েছেন।
২০২৪ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন রবিন। এসেক্সের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে সেটিই তার প্রথম শতক। ২০২৫ মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত ক্লাবের হিসাবে তিনি ২৮টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৭৭৬ রান করেছিলেন।
বাংলাদেশের সঙ্গেও রবিনের ক্রিকেটীয় যোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে খেলেন। এসেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে খেলতে আসার সুযোগটি তার কাছে পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে সংযোগেরও একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল।
বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক
রবিন দাসের বাবা মৃদুল কান্তি দাস বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে ইংল্যান্ডে চলে যান। বিভিন্ন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের পুরোনো প্রতিবেদনে মৃদুল দাসের সুনামগঞ্জের বাড়ির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। রবিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে হলেও বাবার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।
এই পরিচয়ের কারণে ২০২২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ম্যাচে বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামার ঘটনাও বাংলাদেশে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসে ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে বিপিএলে অংশ নেন তিনি।
বর্তমানে অবশ্য তার ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের চেয়ে আদালতে চলমান মামলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ৯ অক্টোবর ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্টে হাজিরার পর মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে; আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সেগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।


