রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগে মিজানুর রহমান স্বপন নামে এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের পরপরই আটক স্বপনকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করেছে এসআরবি সদস্যরা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এসআরবি-২ তাকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই-বাছাই ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দল এসআরবি-২ সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের রাজনীতি ও স্থানীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে মিজানুর রহমান স্বপন শেরেবাংলা নগর এবং পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত এক চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এলাকার বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা দাবি ও আদায় করতেন তিনি। এছাড়া রাজধানী ও সারাদেশের রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল ঘিরে গড়ে ওঠা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের পেছনে মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে তার নাম রয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিজস্ব লোক বসিয়ে সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং রোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
কেবল বাণিজ্যিক খাতই নয়, আগারগাঁওয়ের নতুন রাস্তার ফুটপাতের পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের থেকেও স্বপনের নির্দেশে নিয়মিত দিনভিত্তিক চাঁদা তোলা হতো। পাশাপাশি শেরেবাংলা নগর থানার ঠিক পাশেই অবস্থিত সমবায় বস্তির মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দিয়ে সেখান থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে মোটা অঙ্কের মাসোহারা আদায় করতেন এই ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। এসব অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান স্বপন বর্তমানে থানায় আটক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ সুনির্দিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।


