রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৪৬৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারসহ এক ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মোট ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তালিকাভুক্ত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের ধরতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত মালামাল এবং গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের ভিত্তিতে বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে পরিচালিত অভিযানের বিশদ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
-
মিরপুর বিভাগ: সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে এই বিভাগে, মোট ৯০ জন।
-
মতিঝিল বিভাগ: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
-
তেজগাঁও বিভাগ: অপরাধবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮০ জন।
-
ওয়ারী বিভাগ: পুরান ঢাকার এই বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৪ জন।
-
রমনা বিভাগ: নিরাপত্তা তল্লাশিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৮ জন।
-
লালবাগ বিভাগ: ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার এই এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৮ জন।
-
উত্তরা বিভাগ: উত্তর রাজধানীর এই বিভাগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৪ জন।
-
গুলশান বিভাগ: কূটনৈতিক এলাকা ও আশপাশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩ জন।
-
গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ: বিশেষ কার্যাবলির ভিত্তিতে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন।
অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপরাধীদের হেফাজত থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ নানা চোরাই মালামাল জব্দ করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, একটি শটগানের কার্তুজ ও দুটি ছুরি। মাদকের তালিকায় পাওয়া গেছে ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯ পিস ইয়াবা এবং ২৩ বোতল বিদেশি মদ।
এ ছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ও উদ্ধার হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল একটি পিকআপ ভ্যান, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্ট্যাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, ফয়েল পেপার এবং নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। একই সাথে একটি বিশেষ অভিযানে বন্দি বা জিম্মি অবস্থায় থাকা এক ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পেরেছে ডিএমপি।
রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক কারবার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে মহানগর পুলিশের এ ধরনের যৌথ সাঁড়াশি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সামনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।


