রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে একটি মেসে রান্নার গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে নির্মম মারধর ও কাঁচির আঘাতে আহত নিরব হোসেন (১৫) নামের এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।
নিহত নিরব পেশায় একজন মিস্ত্রি ছিল। সে রায়েরবাজারের গ্রিন গলি এলাকার একটি মেসে থেকে কাজ করত। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার বাবা এনায়েত হোসেন মুন্সি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিরব ছিল সবার ছোট।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহত নিরবের বড় ভাই পিয়াল হোসেন জানান, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে মেসে গ্যাসের চুলায় নিজের জন্য ভাত রান্না করছিল নিরব। ওই সময় একই মেসে বসবাসকারী আলমগীর (২৮) নামের এক রংমিস্ত্রি রান্নাঘরে আসেন। নিরব ভাত নামানোর পর ডিম সেদ্ধ করতে চাইলে একই চুলায় একসংগে রান্না করা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিরব ঝগড়া এড়িয়ে নিজের থাকার কক্ষে চলে যায়।
পিয়াল জানান, ঘটনার সময় রাতে তিনি ও নিরব কক্ষে বিছানায় শুয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আলমগীর, তার ছোট ভাই শিমুল এবং তাঁদের দুই ভাতিজা নাজিম ও ফাহিম হঠাৎ ঘরে ঢুকে নিরবের ওপর চড়াও হন। তারা চারজন মিলে নিরবকে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে শিমুল ধারালো একটি কাঁচি দিয়ে নিরবের ঘাড়ে সজোরে দুটি আঘাত করেন। ছোট ভাইকে বাঁচাতে পিয়াল এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করে অভিযুক্তরা।
কাঁচির আঘাতে মারাত্মক রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ওই রাতেই তাঁকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন স্বজনেরা। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে গত ২২ অক্টোবর তাঁকে আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে যায় কিশোর নিরব।
মারধরের ঘটনায় ইতোমধ্যেই চারজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছিল। পিয়াল অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ মূল অভিযুক্ত আলমগীরকে আটক করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কিশোর নিরবের মৃত্যুর পর পূর্বের হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


