লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ ও বেআইনি মজুতদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ কঠোর তদারকি শুরু করেছে প্রশাসন। উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে তিনটি সার বিক্রয়কেন্দ্র এবং স্থানীয় এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ বস্তা অবৈধভাবে মজুত করা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শেষ বিকেলে রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে কৃষি বিভাগের একটি তদারকি দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একাংশ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে সার লুকিয়ে রাখছে—এমন গোপন অভিযোগ বেশ কিছুদিন ধরেই পাচ্ছিলেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মোল্লারহাট ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে স্থানীয় ৩টি সার বিক্রয় পয়েন্টের পাশাপাশি ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক শেখের ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি গোডাউনে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ব্যতিরেকে গুদামজাত করা ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপিসহ বিভিন্ন ধরনের অনিবন্ধিত সার দেখতে পান কর্মকর্তারা। নথিপত্র পর্যালোচনা করে সারের স্বপক্ষে সন্তোষজনক জবাব ও সঠিক মেমো দেখাতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৬০ বস্তা সার জব্দ করে কৃষি প্রশাসন।
অসাধু মজুতদারির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের বিষয়ে রায়পুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাজেদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের নিকট ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে তাদের এই তদারকি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে সার ডাম্পিং ও নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনটি দোকান ও একটি ব্যক্তিগত গোডাউনে এ অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা সারের উৎস ও তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকেরা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য উপজেলার সকল সার ডিলারের মেমো রেজিস্টার নিয়মিত খতিয়ে দেখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জোর তদারকি অব্যাহত রয়েছে।


