নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নারী শ্রমিককে মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রূপগঞ্জ থানার কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন।
নিহত নারীর নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি ভোলা জেলার সদর উপজেলার চররমেশ এলাকার শামসুদ্দিনের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে তিনি রূপগঞ্জের নাওড়া এলাকায় একটি চায়ের দোকানদারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই এলাকার কাছেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য খাবার রান্নার কাজ করতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে রাতে বাসায় ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে হয় তাকে।
পুলিশের তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ৪ অক্টোবর রাতে রান্নার কাজ শেষ করে নিজের ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন রাবেয়া খাতুন। জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ১০৭ নম্বর সড়কের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামি সারোয়ার জাহান সাগর তার ওপর হামলা চালায়। সে আচমকা রাবেয়া খাতুনের বুকে সজোরে লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় নিজের প্রাণ বাঁচাতে রাবেয়া খাতুন বিকট শব্দে চিৎকার শুরু করলে আসামি সাগর তার নাক ও মুখ চেপে ধরে রাখে। প্রচণ্ড চাপে একপর্যায়ে রাবেয়া খাতুন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর আসামি তাকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। জবানবন্দিতে আসামি স্বীকার করেছে, নাক-মুখ চেপে রাখার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই রাবেয়া খাতুনের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ৫ অক্টোবর দুপুরে প্রজেক্টের ওই ফাঁকা স্থানে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা রূপগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য লাশটি নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
এই নির্মম ঘটনার পর নিহত রাবেয়া খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ শাহিন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জলসিঁড়ি প্রজেক্ট ও এর আশপাশের এলাকায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সারোয়ার জাহান সাগর। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল থানার ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিমের ছেলে।
আসামিকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হলে, সে বিচারকের সামনে হত্যাকাণ্ডে নিজের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। বর্তমানে মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।


