রাজধানীর শান্তিবাগে এক যুবককে ‘মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায়’ কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত সেকান্দার আলী (৩২) সোমবার (৯ মার্চ) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান। ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় ১৭ নম্বর ভাঙারি গলিতে অবস্থান করছিলেন।
সেকান্দারের ভাই আমির আলী অভিযোগ করেন, “মামুন, হান্নানসহ এলাকার পরিচিত মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সেকান্দারকে একত্রে কুপিয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত সেকান্দারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি।
শাহজাহানপুর থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা ৩-৪ জনকে শনাক্ত করেছি যারা এ নৃশংস ঘটনায় জড়িত। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।” তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক জানান, “নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে মাথায়, ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।”
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি শহরের ভাঙারি গলি হওয়ায় নিরাপত্তা Cameras-এর সীমিততা রয়েছে। তবে স্থানীয়রা ঘটনার পর হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করেছেন।
নিহতের পরিবারের দাবী, মাদক ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সতর্ক হওয়ায় সেকান্দারের প্রাণহানি হয়েছে। তারা আশা করছেন দ্রুত পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
নিচের টেবিলে ঘটনা সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | সেকান্দার আলী (৩২) |
| মৃতের স্থান | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| ঘটনার স্থান | শান্তিবাগ, ১৭ নম্বর ভাঙারি গলি |
| অভিযোগ | মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কুপিয়ে হত্যা |
| প্রাথমিক আসামি সংখ্যা | ৩-৪ জন শনাক্ত, ৬-৭ জন মামলা প্রসেসে |
| পুলিশ তদন্ত | চলছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত |
| আহতের অবস্থান | মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো আঘাত |
পুলিশ ও স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত শেষে আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত, এবং নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার চেষ্টার অংশ হিসেবে, সেকান্দারের মতো ন্যায্য কাজের জন্য আমাদের সমাজের তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”
ঘটনাটি রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



