মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধরের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে একটি সংবাদ প্রকাশের পর সিঙ্গাইর পৌর বিএনপির প্রচার সম্পাদক নূরে আলম বাবুল ওই দিন দুপুরে পত্রিকার সিঙ্গাইর উপজেলা প্রতিনিধি মানবেন্দ্র চক্রবর্তীকে ফোন করে সংবাদ প্রকাশের কারণ জানতে চান।
মোবাইল ফোনে নূরে আলম বলেন, ‘যুবদলের মদ খাওয়ার কথা লেখছিস? তোর হাড্ডি ভেঙে দেব। ২০১৩ সালের কথা মনে নাই? তোর কোন বাপ আছে দেখিয়ে দেব। আওয়ামী লীগের আমলে পার পেয়ে গেছিস। তোর কিছুই হয় নাই। এখন কথা কম। কুত্তার বাচ্চা। তুই গোবিন্দল গ্রাম সম্বন্ধে কিছুই জানিস না। তোর কী অবস্থা করি দেখবি।’
সাংবাদিক মানবেন্দ্র চক্রবর্তী জানান, থানায় মাতাল অবস্থায় গ্রেপ্তার দুই যুবদল নেতার সংবাদ ইত্তেফাকসহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর নূরে আলম তাঁকে হুমকি দেন এবং ভবিষ্যতে তাঁর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই কারণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে জিডি করেছেন।
এ বিষয়ে সিঙ্গাইর পৌর বিএনপি নেতা নূরে আলম বাবুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিক মানবেন্দ্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছেন। আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক মানবেন্দ্রকে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা জিডি করা হয়েছে।’
সাংবাদিককে হুমকির নিন্দা জানিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা বলেন, ‘থানায় মাতলামি করার কারণে যুবদলের দুই নেতা দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নূরে আলম বাবুল কেন সাংবাদিককে হুমকি দেবেন? অভিযোগের সত্যতা পেলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন সাংবাদিকদের জানান, নূরে আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, ‘নূরে আলমের লোককে গ্রেপ্তার করায় থানার এক এসআইকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে এবং স্টাফদের বলা হয়েছে নূরে আলম যেন থানায় ঢুকতে না পারেন। সাংবাদিকের জিডির বিষয়টি তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি



