সাভারের আবাসিক এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে একটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৮ রাউন্ড তাজা গুলিসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাভার মডেল থানাধীন পশ্চিম রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. হোসেন (২২), পিয়াল (২২) এবং ইমন (২৪)। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল এই পদক্ষেপ নেয়। দলটিতে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান ভূঁইয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নেছার এবং এএসআই কামাল বাশার। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের এই দল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পশ্চিম রাজাশন পালোয়ানপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ওমর পালোয়ানের বাড়ির চত্বরে পৌঁছায়। সেখানে থাকা একটি পরিত্যক্ত কক্ষ ঘেরাও করে তিন যুবককে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ ও কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে প্রস্তুত রাখা একটি বিদেশি তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ম্যাগাজিন এবং আট রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
শিল্পাঞ্চল ও রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সাভার এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক নিরাপত্তা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে নিয়মিত তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পরপরই গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ কিংবা ব্যবহার রুখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, বেআইনিভাবে মারাত্মক অস্ত্র ও তাজা গুলি সঙ্গে রাখার দায়ে অভিযুক্ত তিন যুবকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অস্ত্র আইনে মামলা নথিভুক্ত করার পর তাঁদের আদালতে প্রেরণের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রটি অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং এর পেছনে অন্য কোনো মূলহোতা জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।


