সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে শরিফুল

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে স্কোয়াডের বাইরে থাকা এই পেসার জানিয়েছেন, এখন তিনি মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত।

প্রথম টেস্টে খেলতে না পারলেও সতীর্থদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দূর থেকেই আনন্দ পেয়েছেন শরিফুল। বাংলাদেশের বড় জয়ের পর দলের উদযাপনের ছবিতেও ছিলেন তিনি। অনুশীলনের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শরিফুল বলেন, মাঠে না থেকেও সতীর্থদের সঙ্গে সেই জয়ের অংশ হতে পেরে তাঁর ভালো লেগেছে। দলের সাফল্যের আনন্দ তিনি উপভোগ করেছেন পুরোপুরিই।

দ্বিতীয় টেস্টের আগে শরিফুলের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রথম ম্যাচের সাফল্য ধরে রাখা। তাঁর মতে, শুধু একটি বিভাগে ভালো খেললেই টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া কঠিন। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দলকে সমন্বিত পারফরম্যান্স করতে হবে। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ সেটিই করতে পেরেছে, আর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

প্রথম টেস্টে না থাকার কারণ ছিল চোট। তবে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই শরিফুলের। বরং পুনর্বাসন ও বিশ্রামের সময়টিকে তিনি শরীরকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, চোট একজন খেলোয়াড়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী আসে না। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চোট কাটিয়ে এখন অনুশীলনে ফিরেছেন শরিফুল। দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে চূড়ান্ত একাদশে জায়গা পাওয়া যে পুরোপুরি দলের প্রয়োজন ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে, সেটিও পরিষ্কার করেছেন তিনি। তাঁর কাজ হলো নিজেকে প্রস্তুত রাখা, যাতে সুযোগ এলে দলের জন্য সর্বোচ্চটা দিতে পারেন।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে নাহিদ রানা ও অন্য পেসারদের পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনাও শরিফুলের নজরে এসেছে। বিদেশি ক্রিকেটার বা সাবেক খেলোয়াড়েরা বাংলাদেশের কোনো পেসারকে নিয়ে ইতিবাচকভাবে আলোচনা করলে সেটিকে দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো বার্তা হিসেবে দেখছেন তিনি।

প্রথম টেস্টে দলের বাইরে থাকলেও নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করছেন না শরিফুল। ম্যাচের আগে সতীর্থদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ জেতার পর সেই আনন্দ আরও বেড়ে যায়। দলের জয়কে তিনি নিজের আনন্দ হিসেবেই দেখেছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের মানুষ যে আনন্দ পেয়েছে, তিনি হয়তো তার চেয়েও বেশি আনন্দ পেয়েছেন।

বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের সঙ্গেও শরিফুলদের যোগাযোগ রয়েছে। চোট থেকে ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে বার্তা দিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন বলে জানান শরিফুল। পরের ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনার কথাও ডোনাল্ড উল্লেখ করেছেন। সাবেক কোচের এমন বার্তা শরিফুলের জন্য নিঃসন্দেহে উৎসাহের।

এদিকে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, সিরিজ জয়ের সুযোগও। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পর বাংলাদেশ এখন দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে আছে। ফলে ম্যাকাইয়ের ম্যাচে জয় কিংবা অন্তত প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখানোই দলের লক্ষ্য। তবে প্রথম টেস্টের ফল নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না ক্রিকেটাররা।

শরিফুলও মনে করেন, দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একসঙ্গে পুরো ম্যাচের ফল নিয়ে না ভেবে প্রতিটি সেশন ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রথম টেস্টের মতোই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ও বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করা। আর শরিফুল যদি একাদশে সুযোগ পান, তাহলে তাঁর বাঁহাতি পেস আক্রমণ দলের বোলিং বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। তবে তাঁকে খেলানোর সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের।

প্রথম টেস্টের জয় বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে ব্যাটারদের রান করার পাশাপাশি পেসার ও স্পিনারদেরও নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে। শরিফুলের লক্ষ্যও সেখানেই—দল হিসেবে ভালো খেলা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়।

ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্টে তাই বাংলাদেশের সামনে পরিষ্কার লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আবারও তিন বিভাগে সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখানো। আর সেই লড়াইয়ে শরিফুল ইসলাম মাঠে থাকুন কিংবা একাদশের বাইরে, তাঁর নিজের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের সাফল্যই তাঁর কাছে সবার আগে।

Tags :

ratul Khaborwala

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ খবর