পাবনার সদর উপজেলার গাছপাড়া এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে সুমন (৩০) নামে এক রিকশাচালককে ধরে নিয়ে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সুমন সদর উপজেলার গাছপাড়া গ্রামের রবি হোসেনের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও স্বজনরা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার দুপুরের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক রিকশাচালক গুরুতর আহত সুমনকে গাছপাড়া এলাকায় তাদের বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছে রেখে যান। ওই সময় সুমনের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে সদর উপজেলার বিলভাদুড়ি এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই চুরির সঙ্গে সুমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই তাকে রোববার কোনো এক সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে তথ্য এসেছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, সুমনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতনের একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে তাকে একটি রিকশায় করে বাড়ির সামনে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনের পরিচয় ইতোমধ্যে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরির অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলেও কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর বা শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। সুমনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ, কারা তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এবং নির্যাতনের সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সুমনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার এখন শোকের মধ্যে রয়েছে। পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার পুরো চিত্র সামনে আসা।


