সিলেটের গোয়াইনঘাট এবং নীলফামারীর ডোমারে পৃথক দুটি মর্মান্তিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গোয়াইনঘাটে স্বামীর বন্ধুদের হাতে এক গৃহবধূ এবং ডোমারে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সিলেটের ঘটনায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। উভয় ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের খবর জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বামী একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সুযোগ বুঝে তাঁর স্বামীর পরিচিত কয়েকজন বন্ধু তাঁকে উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের নগর ডেংরী এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ঘরে প্রবেশের পরপরই নেহাল আহমদ নামে এক যুবক দরজা বন্ধ করে ভয় দেখিয়ে গৃহবধূকে প্রথম ধর্ষণ করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরে নেহাল ঘরের দরজা খুলে দিলে মো. মাসুক আহমদ (৩৮), জুবের আহমদ (৩৫) ও মো. নিজাম উদ্দিন (৩৬) সেখানে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পর্যায়ক্রমে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে।
অত্যাচারের পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ কোনোক্রমে কৌশলে উদ্ধার পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি নেহাল এবং তার সহযোগী মাসুককে গ্রেপ্তার করে। গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন ও অন্যান্য মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নীলফামারীর ডোমারে এক প্রতিবন্ধী তরুণী (২০) ঘরের ভেতরেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্তরা হলো একই এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে আরমান হোসেন (২৬) এবং কারিফের ছেলে লাজু (১৫)। তারা দুজনেই ঢাকায় রডমিস্ত্রির কাজ করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাতে আরমান ও লাজু ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে ট্রেনে উঠেছিল। কিন্তু পথিমধ্যে ট্রেন থেকে নেমে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাড়ে ১২টার দিকে কৌশলে ওই তরুণীর ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে জিম্মি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মেয়েটির তীব্র চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দে আশেপাশের মানুষ জেগে উঠলে অভিযুক্তরা বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে চিলাহাটি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তদের ফেলে যাওয়া কাপড়ের ব্যাগসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে। শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ জানান, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


