সীমান্তে আতঙ্কে ঘরছাড়া বাসিন্দারা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকা সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকের ঘরের দরজায় তালা ঝুলানো দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ পুরুষ সদস্য রেখে পরিবারের বাকি সদস্যকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলি ও মাইন বিস্ফোরণে তারা অপ্রতিরোধ্য বিপদের মুখে পড়ছেন।

গত রোববার, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে আসা গুলিতে লম্বাবিল এলাকার ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনান আহত হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। পরদিন, সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে মাছচাষি মোহাম্মদ হানিফ এক পা হারান এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ৫২ রোহিঙ্গাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও মর্টার বিস্ফোরণ চলছেই। সরকারিভাবী সেনা বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে। একই সময়, রোহিঙ্গাদের তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী স্থল সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে সংঘটিত এই সংঘাতের কারণে টেকনাফের গ্রামগুলো ঝড়ের মতো কেঁপে উঠছে, গুলি ছোড়া হচ্ছে ঘরবাড়ি, চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।

লম্বাবিল এলাকার ২০০ পরিবারের অধিকাংশই মাছ ও চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্তবর্তী এলাকার তুচ্ছ দূরত্ব—মাত্র তিন কিলোমিটার—ও আতঙ্কের মাত্রা কমায়নি। বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ওপার থেকে গুলি এসে ঘরে ঢুকছে। অনেকেই ঘরছাড়া হয়ে কক্সবাজার সদরের আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।

সীমান্ত এলাকায় গুলির তীব্রতা ও প্রভাব (গত ছয় দিন)

ঘটনা/তারিখ প্রভাবিত ব্যক্তি/পরিবার প্রাথমিক ফলাফল
৭ জানুয়ারি হুজাইফা আফনান (৯) মাথায় গুলিবিদ্ধ, ঢাকায় চিকিৎসা
৮ জানুয়ারি মোহাম্মদ হানিফ মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো, চট্টগ্রাম চিকিৎসা
৯–১৪ জানুয়ারি ২০০ পরিবার আতঙ্কে ঘরছাড়া, তালা ঝুলানো
সীমান্ত এলাকায় ব্যবসায়ী ও দিনমজুর কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ

স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল বলেন, “সীমান্তে গুলির কারণে মানুষ আতঙ্কে, অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন। বাকিরা আতঙ্কে ঘরে রয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য সীমান্তে পাহারা জোরদার করা প্রয়োজন।”

মাছচাষি রবিউল ইসলাম ও দিনমজুর রহিম মিয়া ছয় দিন ধরে নিজের ঘের ও কাজে যেতে পারছেন না। রবিউল জানান, ১২ লাখ টাকায় চাষ করা চিংড়ি এখন ঝুঁকিতে, আর রহিম দৈনিক ৬০০–৮০০ টাকা বেতনের কাজ পাচ্ছেন না।

গতকাল বিকেলে টেকনাফ উপজেলা সদরে শাপলা চত্বরের সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়রা গোলাগুলি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, “সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। লোকজন যাতে আতঙ্কিত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।