খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা ছয়দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন কাবু হয়ে পড়েছে। ভোরের কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং পথচারীরা শীতের তীব্রতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ৮–১০ কিলোমিটার। রাতভর ঝিরিঝিরি হিমেল বাতাসে শহরের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা জমে শীতের মাত্রা আরও বৃদ্ধি করেছে। সকাল ৯টার পর সূর্য উঁকি দিলেও তীব্র রোদের ছোঁয়া সকাল ১০টার আগ পর্যন্ত অনুভূত হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা তাপমাত্রা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়:
| তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস) | শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা |
|---|---|
| ২–৪ | অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ |
| ৪–৬ | তীব্র শৈত্যপ্রবাহ |
| ৬–৮ | মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ |
| ৮–১০ | মৃদু শৈত্যপ্রবাহ |
৬ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তরের এই জনপদে টানা ৯ দিন শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ৯ জানুয়ারি থেকে আজ ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ছয়দিন ধরে তেঁতুলিয়া দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধরে রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।
আজ সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় আবৃত চারপাশ। গ্রামীণ পথ ও বাজার সুনসান। শীত নিবারণে কৃষক গৃহপালিত প্রাণীগুলো কম্বল বা চট দিয়ে ঢেকে রাখছেন। কিছু পথচারী খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে।
সদর উপজেলার হেলিপ্যাড এলাকায় ভ্যানচালক ছলেমান আলী (৪৬) বলেন, “আজ ভোর থেকে খুব কুয়াশা। কাপড় ভিজে যাচ্ছে, হাত-পা ব্যথা করছে, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। দেখার দূরত্ব মাত্র ১০ হাত।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, “টানা ৯ দিন শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। আজও ঘন কুয়াশা ছিল। দিনের বেলায় রোদ ওঠার সম্ভাবনা আছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।”
শীতপ্রবাহের এই অব্যাহততায় সাধারণ মানুষ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি রাতের ও ভোরের সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তরও নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে।