নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর আইয়ুব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আইয়ুব হোসেন (৫০) কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিল হোসেন নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক করেছে পুলিশ।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন হঠাৎ নিখোঁজ হন। সময়মতো বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার সকালে কাঁচপুর এলাকায় জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানির পেছনে নিহতের নিজস্ব ভাঙারি গোডাউনের কাছের একটি ডোবায় বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয় অধিবাসীরা। সন্দেহজনক মনে হলে তারা বিষয়টি সোনারগাঁও থানা পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তার মুখ খোলার পর ভেতরে আইয়ুব হোসেনের হাত-পা বাঁধা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) দীপংকর ঘোষ এবং সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক জানান, উদ্ধারের সময় নিহতের মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণ করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়। নিহতের পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে আগে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আটক নিরাপত্তা প্রহরীকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


