হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলীয় মেজোকোভেসদ শহরের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন পোলিশ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৩৭ জন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি আন্তর্জাতিক পর্যটকবাহী বাস রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে উল্টে গেলে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।
হাঙ্গেরির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই সূত্রে জানা যায়, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই দোতলা বাসে দুজন চালকসহ মোট ৫৯ জন আরোহী ছিলেন। তারা সার্বিয়া সফর শেষে নিজ দেশ পোল্যান্ডে ফিরছিলেন। হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে এম-৩ মহাসড়কে নিয়েরেজহাজা অভিমুখে যাওয়ার পথে। গাড়িটি সোজা সড়ক থেকে হঠাৎ ছিটকে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে গিয়ে একপাশে উল্টে যায়। উদ্ধার পাওয়া ছবির বিবরণে দেখা যায়, লাল রঙের মেগা বাসটির সামনের ও পাশের সমস্ত কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং আশপাশের দুর্ঘটনাস্থলে নিহত ও আহত যাত্রীদের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে হাঙ্গেরিয়ান ফায়ার সার্ভিস, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে অনেককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বের করে নিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, বাসের শক্ত ধাতব ফ্রেমের মাঝে একাধিক যাত্রী আটকে পড়েছিলেন, যাদের জানালা কেটে বের করতে হয়েছে। চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহতদের হাঙ্গেরির আঞ্চলিক বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাঙ্গেরির ডিরেক্টরেট অব পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে যে দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর কারণে চালক ভোরে কোনো এক মুহূর্তে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো বাহনের ধাক্কা ছিল কি না, তা স্পষ্ট করতে একটি কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাসের জীবিত চালককে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাঙ্গেরির কনস্যুলার বিভাগ দ্রুত তাদের হটলাইন চালুকরসহ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি ঘটনাটিকে একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি উল্লেখ করে নিহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অন্যদিকে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাজিয়ার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে হতাহতদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসসহ সকল জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
হাঙ্গেরির ইউরোপীয় সড়ক খাতের ইতিহাসে ২০০৩ সালের পর এটিই সবচেয়ে মারাত্মক ট্র্যাজেডি। এর আগে ২০০৩ সালে দেশটির শিওফোক এলাকায় এক যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে জার্মান পর্যটকবাহী একটি বাসের সংঘর্ষে ৩৩ জন বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। আজকের ঘটনার পর এম-৩ মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ রেখে উদ্ধারকাজ ও বিশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।



