হাম ও উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর উপসর্গে আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির কন্ট্রোলরুম থেকে সোমবার (৮ জুন) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮০ হাজার ১০৪ জনে, যা একটি বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। সব মিলিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মোট ৫৩৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে।

অন্যদিকে, একই সময়সীমায় নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৭৭৯ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৫ হাজার ২৩৭ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬১ হাজার ২৭৮ জন রোগী।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিচে গত ২৪ ঘণ্টা এবং ১৫ মার্চ থেকে ৮ জুন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসমূহ তুলে ধরা হলো—

সূচক গত ২৪ ঘণ্টা ১৫ মার্চ–৮ জুন পর্যন্ত
হামে আক্রান্ত শিশু ১,০৯২ জন ৯,৭৭৯ জন (নিশ্চিত)
সন্দেহজনক রোগী — ৮০,১০৪ জন
হাসপাতালে ভর্তি — ৬৫,২৩৭ জন
সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র — ৬১,২৭৮ জন
মৃত্যু (সন্দেহজনক হাম) ৭ জন ৫৩৬ জন
মৃত্যু (নিশ্চিত হাম) ১ জন ৯২ জন
মোট মৃত্যু (গত ২৪ ঘণ্টা) ৮ জন —

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোগটির বিস্তার শুধু শহর নয়, গ্রামীণ অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি না করা গেলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জ্বর, র‍্যাশ বা শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো উপসর্গকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।