দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯১৭ শিশু হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০-তে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে মারা যাওয়া ১০০ শিশুকে ধরলে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯১। এত বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু দেশের সাম্প্রতিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে আরও ৮৪৩ শিশু। অর্থাৎ এক দিনেই হাম ও সম্ভাব্য হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৯১৭-তে পৌঁছেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। গত এক দিনে ৭৬১ শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৫৭১ শিশু হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। ফলে সংক্রমণের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক হিসাব পরিস্থিতির ব্যাপকতাও তুলে ধরছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪১ জনের। এই সময়ে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২১ জন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হাম সংক্রমণের বিস্তার দেখা দেয়। মার্চে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠার পর সরকারি পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এপ্রিল মাসে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে মে মাসে শেষ হয়। তবে ওই কর্মসূচির আওতায় ৩৯ লাখের বেশি শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট হিসাবের ভিত্তিতে জানা গেছে। ফলে টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং শিশুদের মধ্যে এর বিস্তার দ্রুত ঘটতে পারে। বিশেষ করে পর্যাপ্ত টিকাকভারেজ না থাকলে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নিয়মিত টিকাদান, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন শত শত নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং শিশু মৃত্যুর ধারাবাহিকতা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করা, টিকাদানের ঘাটতি পূরণ করা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাম নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে চালিয়ে যাওয়াও জরুরি হয়ে উঠেছে।


