ভারতের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলির আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পরবর্তী বড় অধ্যায়টি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে লেখা হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হবে বলে জানিয়েছেন কোহলি। জিয়োস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে আফ্রিকার তিন দেশে বসবে আইসিসি পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি, জিম্বাবুয়ের তিনটি এবং নামিবিয়ার একটি—মোট ১২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটি। ২০২৭ সালের আসরে অংশ নেবে ১৪টি দল এবং মোট ম্যাচ হবে ৫৭টি। ২০০৩ সালের পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
জিয়োস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, বিশ্বকাপের আগে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। তাঁর কথায়, আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে সর্বোচ্চটা দেওয়াই এখন লক্ষ্য। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ২০২৭ সালের আসরটি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কোহলির বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন ভারত শিরোপা জিতেছিল। এরপর ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩—আরও তিনটি বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। অর্থাৎ ২০২৭ সালের আসর হবে তাঁর পঞ্চম ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও কোহলির অবস্থান অনন্য। এখন পর্যন্ত চারটি আসরে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে বিপুল রান। বিশেষ করে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সেই আসরে ১১ ম্যাচে ৭৬৫ রান করে এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও তিনি ওপরের সারিতে রয়েছেন।
ভারতের ওয়ানডে ক্রিকেটেও তাঁর অবদান দীর্ঘদিনের। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হয়ে ৩১৪টি ওয়ানডেতে কোহলির সংগ্রহ ১৪ হাজার ৯৪১ রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সময় ধরে তিন নম্বরে ব্যাটিং করে তিনি ভারতের ওয়ানডে দলের ব্যাটিং কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ছিলেন।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ তাঁর জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আফ্রিকার কন্ডিশন, একাধিক দেশে ম্যাচ এবং নতুন টুর্নামেন্ট কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকবে প্রতিটি দলের সামনে। এবার বিশ্বকাপে ১৪টি দল অংশ নেবে। প্রথম ধাপে তিনটি দল নিয়ে হবে সুপার সিরিজ। সেখান থেকে একটি দল পরের ধাপে উঠবে। এরপর ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে সেরা সাত দল যাবে সুপার সেভেন পর্বে, আর সেখান থেকে চার দল খেলবে সেমিফাইনালে।
বিশ্বকাপের ১২টি ভেন্যুর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার রয়েছে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স, সেঞ্চুরিয়ন, কেপটাউনের নিউল্যান্ডস, ডারবানের কিংসমিড, গকেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্ক, ব্লুমফন্টেইনের মাঙ্গাউং ওভাল, পার্লের বোল্যান্ড পার্ক এবং কুগোম্পো সিটির বাফেলো পার্ক। জিম্বাবুয়ের ভেন্যুগুলো হলো হারারে স্পোর্টস ক্লাব, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব এবং ভিক্টোরিয়া ফলসের মসি-ওয়া-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। নামিবিয়ার ম্যাচ হবে রাজধানী উইন্ডহোকে নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
কোহলির জন্য এই বিশ্বকাপ তাই কেবল আরেকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট নয়। ২০১১ সালে যে বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৭ সালে তার সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়ও লেখা হতে পারে। তবে তার আগে ভারতীয় দলে তাঁর ভূমিকা, ফর্ম এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কোহলি নিজেও আপাতত ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করে আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও নিজের সেরা পারফরম্যান্সের দিকেই মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


