আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একুশে আগস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি শোকাবহ দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ বহু নেতাকর্মী এই হামলায় আহত হয়েছিলেন। প্রতি বছর আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনটি অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছর এই শোকাবহ দিনটিতে বেলজিয়ামের হ্যাসেল্টে একটি বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। জানা গেছে, ওই দিন স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তির বাসভবনে এই ছোট পরিসরের আয়োজন করা হয়, যেখানে গ্রিল করা মাংস ও সসেজের মতো খাবারের ব্যবস্থা ছিল।
২০০৪ সালের ওই গ্রেনেড হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হাছান মাহমুদও ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক ভাষ্যে এবং স্মৃতিচারণায় এই হামলার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে এসেছেন। ফলে শোকের এই দিনে বিদেশে তার বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে এই আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী তাতে সাড়া দেননি। যে কারণে সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই হাছান মাহমুদ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি তিনি এখন অন্যান্য দেশে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই শোকের দিনে শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতার এমন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদানের বিষয়টি প্রবাসের নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। দলের ঐতিহ্যগত নিয়ম ও ভাবমূর্তির সঙ্গে এই ধরনের ব্যক্তিগত আয়োজন কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আপনার কি মনে হয় দেশের বাইরে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের এমন সামাজিক ও ব্যক্তিগত কার্যক্রম দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কোনো বিভাজন তৈরি করতে পারে?


