ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ যখন চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে, তখন পাল্টা জবাবে অস্ট্রেলিয়াও বড় ধাক্কা খেয়েছে। একসময় স্বস্তিতে থাকা স্বাগতিকদের ইনিংসে হঠাৎ করেই নেমে আসে ধস। মাত্র ৩০ রানের ব্যবধানে পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বাংলাদেশ। এই ধসের মূল কারিগর পেসার শরীফুল ইসলাম, যিনি একাই শিকার করেছেন ছয় উইকেট।
বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না অস্ট্রেলিয়া। ৪১ রান তুলতেই তারা হারায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ম্যাট রেনশ ৮ রান করে ফিরে যান। এরপর ট্রাভিস হেড ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মার্নাস লেবুশেনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি; ৪ রান করেই তাঁকে বিদায় নিতে হয়।
তিন উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব পড়ে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরুন গ্রিনের কাঁধে। দুজন মিলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তাদের ব্যাটে প্রতিরোধের আভাসও পাওয়া যাচ্ছিল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৭৭ রান। এই জুটির ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সামান্য সংগ্রহের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দেননি শরীফুল ইসলাম। তাঁর দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ আবারও ভেঙে পড়ে। ৭৭ রানের জুটি ভাঙার পর শুরু হয় দ্রুত উইকেট পতন। মাত্র ৩০ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে ফেলে আরও পাঁচ ব্যাটারকে। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকা ইনিংস মুহূর্তেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
স্মিথ ৪২ রান করে আউট হন। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি ৫ এবং মিচেল স্টার্ক মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্স কোনো রান করার আগেই সাজঘরের পথ ধরেন। একের পর এক উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া বড় লিড নেওয়ার সুযোগও কঠিন করে ফেলে।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন শরীফুল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তিনি নিয়মিত আঘাত করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছেন। তাঁর ছয় উইকেট শিকার বাংলাদেশের জন্য নতুন করে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ৩৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৬৪ রানের তুলনায় তারা এগিয়ে আছে ৮৭ রানে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়া এখনও লিডের জায়গায় থাকলেও একপর্যায়ে যে অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, অল্প রানে অলআউট হওয়ার পরও বোলাররা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফিরিয়ে এনেছেন। অস্ট্রেলিয়ার হাতে এখন মাত্র দুই উইকেট। ফলে শেষ দুই ব্যাটারের জুটি কত রান যোগ করতে পারে এবং বাংলাদেশ সেই রান তাড়ায় কীভাবে ব্যাটিং করে—ম্যাকাই টেস্টের পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।


