ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার সমর্থকদের হামলায় শাহ আলম মাতুব্বর (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতা আহত হয়েছেন। হামলায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং একটি দাঁত পড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সালথা থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারে সেলিম মাতুব্বরের মুদি দোকানের সামনে পাকা সড়কের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শাহ আলম মাতুব্বর মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
শাহ আলম মাতুব্বরের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ মোল্যাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের গাড়ি ভাঙচুরের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান শাহ আলম। তাঁর দাবি, ফরিদ মোল্যার গ্রেপ্তারের জন্য তাঁকে দায়ী করে ওই নেতার সমর্থকেরা শুক্রবার বিকেলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলার সময় তাঁকে ঘিরে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে আঘাতের কারণে তাঁর একটি দাঁত পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তবে তাঁর চিকিৎসা কোথায় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কেমন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর শাহ আলমের ভাই সজিব হোসেন (৪৪) বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেন। মামলায় মাঝারদিয়া গ্রামের মিরাজ মোল্যা (৪০), ইমরান মোল্যা (২৫), জিয়া মাতুব্বর (৪০), রাজিব মোল্যা (৩০), কাউসার মাতুব্বর (৩০) ও শাহিদ শেখ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার বা সমর্থন করে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেক আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা হয়নি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জিয়া মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত না ছড়ায়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।


