দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭৩১ জন রোগী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।
চলতি বছর হাম পরিস্থিতি ক্রমেই বড় আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার ২০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৮৫ জন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২০ হাজার ৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসৃত কণার মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হাম আক্রান্তের সাধারণ লক্ষণ। তবে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গ দেখা দিলে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং অন্য শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করা রোগটির বিস্তার ঠেকানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে একদিকে নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা যেমন উঠে এসেছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ার তথ্যও রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।


