এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেক আসরে প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ঘরোয়া লিগ চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারসের। তবে বিদায়ের আগে শেষটা মনে রাখার মতোই করে রাখলো দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিযোগিতায় নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে গুয়ামের ফুটবল ক্লাব রোভার্স এফসিকে ৮-০ গোলের বড় ব্যবধানে উ উড়িয়ে দিয়েছে তহুরা-মনিকারা।
মালয়েশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ রোভার্স এফসির ওপর আক্রমণের বন্যা ভাসিয়ে দেয় রাজশাহী স্টারসের ফরোয়ার্ডরা। আক্রমণের তোড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ বারবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। দলগত শক্তির পূর্ণ প্রদর্শন করে বাংলাদেশের হয়ে একাই দারুণ এক হ্যাটট্রিক উপহার দেন তারকা ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের জালে দুইবার বল পাঠিয়ে জোড়া গোল নিজের নামে লিখিয়ে নেন শামসুন্নাহার।
মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সামলানো ও বল সরবরাহের পাশাপাশি স্কোরবোর্ডে নাম তুলেছেন গতিময় মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। তার সাথে আক্রমণভাগের আরেক ভরসা শামসুন্নাহার জুনিয়রও একটি গোল করে দলের বড় জয়ে ভূমিকা রাখেন। ম্যাচের বাকি গোলটি আসে রোভার্স এফসির এক ফুটবলারের পা থেকে, যা ছিল একটি দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোল। এই বিশাল জয়ে কেবল ৩ পয়েন্টই অর্জন হয়নি, প্রথম দুই ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে শেষটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেষ করতে পেরেছে দলটি।
টুর্নামেন্টের প্রাথমিক লড়াইয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করলো রাজশাহী স্টারস। তিন ম্যাচ খেলে একটি জয় ও দুটি পরাজয়ে মোট ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিক থেকে এই ফল বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ফুটবলবোদ্ধারা।
ঐতিহাসিক দিক থেকে এই আসরটি বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে রাজশাহী স্টারস এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয়। প্রথম কোনো নিবন্ধিত বাংলাদেশি ক্লাব হিসেবে এশিয়ার সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব টুর্নামেন্টে খেলার বিরল নজির গড়ে তারা দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস যোগ করেছিল।
অথচ আসরের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক মঞ্চের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রথম ম্যাচে ভারতের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হয়ে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় রাজশাহী স্টারস। এর পরের ম্যাচে কিছুটা গুছিয়ে উঠলেও ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি; মালয়েশিয়ার শক্তিশালী সাবাহ এফএ’র কাছে ২-১ গোলে হেরে গিয়ে টুর্নামেন্টের পরের ধাপে যাওয়ার আশা হাতছাড়া হয় তাদের। তবে ব্যর্থতার গল্পে ইতি টেনে শেষ ম্যাচে রোভার্স এফসির বিরুদ্ধে এমন বড় জয় দিয়ে বিদায় নেওয়াটা তহুরা-মনিকাদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় একটি বড় প্রাপ্তি।


