খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অপুষ্টিজনিত কারণে ৯৮ জন শিশুসহ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং আরও ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ইসরায়েল গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর জানা গেছে, শহরটি খালি করার জন্য ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার অনুমোদিত এবং প্রকাশিত ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনায় গাজা যুদ্ধের অবসানের জন্য পাঁচটি ‘মূলনীতি’ উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটি হলো ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, প্রথম ধাপে গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেখানকার আনুমানিক ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হবে।
এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলসহ ইসরায়েলের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। কিছু সামরিক কর্মকর্তা এবং গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারের সদস্যরাও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন, কারণ তারা বন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সমালোচনাকে অগ্রাহ্য করে বলেছেন, এতে তাদের সংকল্প দুর্বল হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত নরম সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহের শুরুতে বলেছেন, গাজা সম্পূর্ণ দখল করা হবে কি না, তা “প্রায় পুরোপুরি ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত”।
এদিকে খাদ্য সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খাদ্য নিতে গিয়ে ২১ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে — যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সহায়তা বিতরণ কেন্দ্র চালু করে — খাদ্য সংগ্রহের পথে ১৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে এবং ৫১৪ জন খাদ্যবাহী বহরের পথে।
জাতিসংঘ বলছে, নিহতদের বেশিরভাগকে ইসরায়েলি সেনারা হত্যা করেছে, যদিও জিএইচএফ এ সংখ্যা অস্বীকার করেছে।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/এফএস