অন্য ঘরে ঘুমাতে বলায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা স্বামীর
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৮:২৫ এএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে শাবল দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোররাতের দিকে পৌর এলাকার স্বজনপুকুর (বুন্দিপাড়া) গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কুলসুম আক্তার মিমির বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে। অভিযুক্ত মানিক হোসেন পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই মানিক হোসেন স্ত্রী কুলসুম আক্তারের বাবার বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাদের সংসারে তিন ছেলে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানিক হোসেন কোনো স্থায়ী কাজ করতেন না। সংসারের ব্যয়ভার, অর্থনৈতিক সংকট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। এসব বিষয় নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনার দিন ভোরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুলসুম আক্তার স্বামীকে অন্য একটি ঘরে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। কিন্তু মানিক হোসেন একই ঘরেই থাকতে চান এবং এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে কুলসুম আক্তার পুনরায় তাকে অন্য ঘরে চলে যেতে বললে মানিক হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাগের মাথায় তিনি ঘরে থাকা একটি শাবল দিয়ে কুলসুম আক্তারের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে তার মাথা গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। পরে শাবলের পেছনের অংশ দিয়েও তার বুকে আঘাত করা হয়। আঘাতের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই কুলসুম আক্তারের মৃত্যু হয়।
এ সময় ঘরে থাকা তাদের সন্তানরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। তারা অভিযুক্ত মানিক হোসেনকে আটক করে রাখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
নিহত কুলসুম আক্তারের বড় ছেলে আল-আমিন জানান, তার বাবাই তাদের চোখের সামনে মাকে হত্যা করেছেন। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, মায়ের হত্যার বিচার এবং বাবার সর্বোচ্চ শাস্তি চান তারা।
ঘটনার পর নিহতের মা মেহেরুন নেছা বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পরিণতিতেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত মানিক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক সহিংসতার এমন নির্মম পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধ, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা পারিবারিক মতবিরোধ কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না। এমন ঘটনা প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা, সামাজিক সহায়তা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য