খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের তীব্র ধাক্কায় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ঘটা এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের আরও অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে মহাসড়কের মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেছে।
লালমাই হাইওয়ে ক্রসিং থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘নীলাচল পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ভোররাতে বিপুলাসার এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় ওই স্থানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের ওপর একটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
ভোররাতের অন্ধকার ও অসতর্ক গতির কারণে নীলাচল পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, বাসটির সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে ট্রাকের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রী নিহত হন এবং জানালার কাচ ও সিটের ধাক্কায় আরও ১০ জন যাত্রী রক্তাক্ত জখম হন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারানো যাত্রীর নাম মোস্তফা কামাল (৬০)। তিনি নোয়াখালী জেলার কাচিহাটা গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতর আটকে পড়া আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। আহতদের উদ্ধার করার পর চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলে লালমাই হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি সরিয়ে নেয়। সকাল হওয়ার আগেই মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়।
“ভোররাতের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি বিকল ট্রাকের পেছনে বাসটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়েই আমরা ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করি। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” — ওসমান গনি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), লালমাই হাইওয়ে ক্রসিং থানা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত যানবাহন বিকল হলে কোনো প্রকার সতর্ক সংকেত বা রিফ্লেক্টর না রেখে সড়কের ওপর ফেলে রাখার কারণেই ভোররাতে এই ধরনের দুর্ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। তারা হাইওয়ে পুলিশকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।